মাহমুদউল্লাহর ব্যাটে বাংলাদেশের পুঁজি ১৭৫, বিপদে জিম্বাবুয়ে

স্পোর্টস ডেস্ক:
ত্রিদেশীয় সিরিজের চতুর্থ ম্যাচে মুখোমুখি স্বাগতিক বাংলাদেশ এবং জিম্বাবুয়ে। টস জিতে বাংলাদেশকে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানান জিম্বাবুয়ের দলপতি হ্যামিল্টন মাসাকাদজা। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ তুলেছে ১৭৫ রান। ফিফটির দেখা পান মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ।

চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরি স্টেডিয়ামে বুধবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় ম্যাচটি শুরু হয়। ম্যাচটি সরাসরি সম্প্রচার করছে গাজী টিভি। দুই ম্যাচে দুই জয়ে ৪ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে আফগানিস্তান। সমান সংখ্যক ম্যাচে এক হারে ২ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে বাংলাদেশ। দুটি ম্যাচেই জয়হীন থাকায় পয়েন্ট শূন্য জিম্বাবুয়ে অবস্থান করছে টেবিলের তলানিতে (তিনে)। টুর্নামেন্টে টিকে থাকতে আক্ষরিক অর্থেই ম্যাচটিতে জিম্বাবুয়ানদের জয়ের বিকল্প নেই। হেরে গেলেই বেজে যাবে বিদায় ঘণ্টা। আর বাংলাদেশ উঠে যাবে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে।

মিরপুর শের-ই-বাংলায় টুর্নামেন্টে নিজেদের প্রথম ম্যাচে জিম্বাবুয়েকে হারিয়ে টুর্নামেন্টের প্রথম জয় তুলে নিলেও পরের ম্যাচেই রশিদ-মুজিব ঘূর্ণি যাদুতে নাকাল হয়ে আফগানদের বিপক্ষে হেরেছে বাংলাদেশ। এই ম্যাচে জিতলেই ফাইনালে উঠবে সাকিবের দল। হারলে অপেক্ষা বাড়বে, শেষ ম্যাচে আফগানদের বিপক্ষে তখন বড় ব্যবধানে জিততেই হবে।

বাংলাদেশের একাদশে তিন পরিবর্তন। বাদ পড়েছেন সৌম্য সরকার, সাব্বির রহমান এবং তাইজুল ইসলাম। একাদশে এসেছেন নাজমুল হোসেন শান্ত, আমিনুল ইসলাম এবং শফিউল ইসলাম। এরমধ্যে নাজমুল এবং আমিনুলের অভিষেক হচ্ছে। আর জিম্বাবুয়ের একাদশ থেকে ছিঠকে গেছেন তেন্দাই চাতারা এবং ক্রেইগ আরভিন। দলে ঢুকেছেন ক্রিস এমপফু এবং রিচমন্ড মুতুম্বাবি।

ব্যাটিংয়ে নেমে ইনিংসের পঞ্চম ওভারে বিদায় নেন অভিষিক্ত ওপেনার নাজমুল হোসেন শান্ত। দলীয় ৪৯ রানের মাথায় বিদায় নেন এই বাঁহাতি ওপেনার। তার আগে ৯ বলে একটি বাউন্ডারিতে করেন ১১ রান। স্কোরবোর্ডে আর ৬ রান যোগ হতেই বিদায় নেন আরেক ওপেনার লিটন দাস। তার আগে স্বাগতিকদের ভালো সূচনা এনে দেন লিটন। এমপফুর বলে মাদজিভার দুর্দান্ত ক্যাচে ফেরার আগে লিটন ২২ বলে ৩৮ রান করেন। দুটি ছক্কার পাশাপাশি চারটি চারের মার ছিল লিটনের ব্যাটে। উইকেটে থিতু হওয়ার আগেই ফেরেন দলপতি সাকিব আল হাসান। রায়ান বার্লের বলে উইলিয়ামসের হাতে ধরা পড়ার আগে সাকিব ৯ বলে এক বাউন্ডারিতে করেন ১০ রান। প্রথম ম্যাচে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ১ রান আর দ্বিতীয় ম্যাচে আফগানদের বিপক্ষে সাকিব করেছিলেন ১৫ রান।

এরপর জুটি গড়েন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ এবং মুশফিকুর রহিম। তারা যোগ করেন আরও ৭৮ রান। ইনিংসের ১৭তম ওভারে উইকেটের পেছনে ধরা পড়ার আগে মুশফিক করেন ২৬ বলে তিন চার আর এক ছক্কায় ৩২ রান। দলীয় ১৪৩ রানের মাথায় বাংলাদেশ চতুর্থ উইকেট হারায়। ১৯তম ওভারে ছক্কা হাঁকিয়ে টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে চতুর্থ ফিফটির দেখা পান রিয়াদ। একই ওভারে আফিফ হোসেন (৮ বলে ৭) উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন। রিয়াদ শেষ ওভারে ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে বাউন্ডারি সীমানায় ধরা পড়েন। তার আগে ৪১ বলে করেন ৬২ রান। তার ইনিংসে ছিল একটি চার আর পাঁচটি ছক্কার মার। পরের বলেই কাইল জারভিস বিদায় করেন ২ রান করা মোসাদ্দেক হোসেনকে। সাইফউদ্দিন ৬ এবং অভিষিক্ত আমিনুল ইসলাম ০ রানে অপরাজিত থাকেন।

৪ ওভারে ৪২ রান খরচায় এমপফু দুটি উইকেট তুলে নেন। কাইল জারভিস ৪ ওভারে ৩২ রান দিয়ে পান তিনটি উইকেট। একটি করে উইকেট পান মুতুমবোদজি আর রায়ান বার্ল।

বাংলাদেশ একাদশ: নাজমুল হোসেন শান্ত, লিটন দাস, সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, মোসাদ্দেক হোসেন, আফিফ হোসেন, আমিনুল ইসলাম, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন, শফিউল ইসলাম এবং মোস্তাফিজুর রহমান।

জিম্বাবুয়ে একাদশ: ব্রেন্ডন টেইলর, হ্যামিল্টন মাসাকাদজা, রিচমন্ড মুতুম্বাবি, শন উইলিয়ামস, টিনোটেন্ডা মুতুমবোদজি, রায়ান বার্ল, রেগিস চাকাভা, নেভিল মাদজিভা, কাইল জারভিস, আনিসলে এনভু এবং ক্রিস এমপফু।

আরও সংবাদ
error: You are under arrest !!