আ’লীগই দেশে রাজনৈতিক সহিংসতা শুরু করেছে: মওদুদ

বাংলাদেশে রাজনৈতিক সহিংসতার শুরু আওয়ামী লীগই করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ।

শুক্রবার (২৫ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১২টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের মানিক মিয়া মিলনায়তনে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সাবেক সভাপতি মরহুমা অধ্যাপিকা রেহানা প্রধানের স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

মওদুদ আহমেদ বলেছেন, বাংলাদেশে বর্তমানে একটা পুলিশি রাষ্ট্র। যার কারণে আজকে সামাজিক অপরাধ বেড়েছে। সমাজের নীতি-নৈতিকতাহীন অবস্থা বিরাজ করছে। মা ছেলেকে খুন করছে। ছেলে মাকে খুন করছে। ভাই ভাইকে খুন করছে। ছেলে বাবাকে খুন করছে।

‘যারা এগুলো করছে তারা সবাই আওয়ামী লীগের মদদপুষ্ট। তারা জানে যে, অপরাধ করলেও তাদের ধরা পড়ার সম্ভাবনা নেই। ধরা পড়লেও তারা দ্রুত রেহাই পেয়ে যাবে। ফলে বিচারহীনতার একটি সংস্কৃতি বাংলাদেশে গড়ে উঠেছে।’

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার সংবিধানসম্মত নির্বাচিত সরকার নয়। ২৯ ডিসেম্বর সিভিলিয়ান ক্যু’র মাধ্যমে এই সরকার ক্ষমতায় এসেছে। ১০ বছরের যে নির্যাতন, অন্যায়, অত্যাচার, নিপীড়ন, দুর্নীতি-দুঃশাসন, সেটির বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে ২০১৯ সালে। এর আগে মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান হয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে অভিযানে বহু নিরীহ মানুষকে তারা হত্যা করেছে। কিন্তু একজন গডফাদারকেও তারা ধরতে পারেনি।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনার পর শুরু হলো শোভন-রাব্বানীর চাঁদাবাজির কাণ্ড। গত ১০ বছরে এই ছাত্রলীগ এবং যুবলীগ মানুষের ওপর অত্যাচার, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি করেছে। কিন্তু গত ১০ বছরে ছাত্রলীগ-যুবলীগের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এমন কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের নাই যেখানে ছাত্রলীগের টর্চার সেল নাই। বুয়েটেই ১০টি টর্চার সেল রয়েছে। যার একটিতে আবরার ফাহাদকে হত্যা করা হয়।

আওয়ামী লীগ নেতাদের উদ্দেশ্য করে বিএনপির এই নেতা বলেন, সবসময় আমাদের দোষারোপ করা হয় যে, বিএনপি একটি দল যারা রাস্তায় গাড়ি ভাঙচুর, সন্ত্রাস করে। কিন্তু বাংলাদেশের রাজনীতিতে রাজনৈতিক সংহিসতার পরিচয় ঘটিয়েছে আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগই বছরের পর বছর প্রত্যেকটা আন্দোলনের সময় ভাঙচুর করেছে। মানুষের সম্পত্তি নষ্ট করে যানবাহন ভাঙচুর করে আওয়ামী লীগ নিজেদের দাবি আদায় করার চেষ্টা করেছে। আজকে তারা এমন একটা ভাব দেখায়, যেন সবাই একদম ধোয়া তুলসী পাতা। আর আমরা হলাম সব দুষ্ট মানুষ।

প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের কথা উল্লেখ করে মওদুদ বলেন, সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারত সফর করে এসেছেন। আমাদের ৫৪টি অভিন্ন নদী রয়েছে। যখন গঙ্গার পানির একপেশেভাবে ভারত নিয়ে যেতে শুরু করলো, তখন আমাদের শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ভারতকে বাধ্য করেছিল গঙ্গা পানি চুক্তি করতে।

‘গত ১০ বছরে তিনি শুধু ভারতকে দিয়ে এসেছেন। কোনো কিছু আনতে পারেননি। এবারের সফরেও তিনি বাংলাদেশের জন্য কিছুই আনতে পারেননি। সুতরাং তিনি যতই বলেন বাংলাদেশের স্বার্থ বিক্রি করি নাই, একথা এখন দেশের মানুষ বিশ্বাস করে না,’ যোগ করেন বিএনপির এই নেতা।

আবু মোবাশ্বের মো. আনাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে আরো বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, প্রধান আলোচক হিসেবে আলোচনা করেন জাগপা সভাপতি ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান, শফিউল আলম প্রধান প্রমুখ।

আরও সংবাদ
error: You are under arrest !!