প্রদীপ জ্বালিয়ে শুরু শ্যামাপূজা ও দীপাবলি

দেশ জাতির মঙ্গল ও শান্তি কামনায় প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মধ্য দিয়ে শ্যামাপূজা ও দীপাবলির উদ্বোধন করেছেন খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার।

 

রোববার (২৭ অক্টোবর) ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে সহস্র প্রদীপ প্রজ্জ্বলন অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন তিনি। এসময় উপস্থিত ছিলেন মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সভাপতি শৈলেন্দ্রনাথ মজুমদার, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট কিশোর রঞ্জন মন্ডল, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক নির্মল কুমার চ্যাটার্জি প্রমুখ।

 

প্রধান অতিথির বক্তব্যে দেশ ও জাতির মঙ্গল কমনা করে খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেন, যথাযথ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে দেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব শ্যামাপূজা ও দীপাবলি উদযাপিত হচ্ছে। পূজা উপলক্ষে সারাদেশে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। এসময় তিনি দেশে শান্তি ও মঙ্গল কামনা করেন। একইসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সুস্থতা ও দীর্ঘায়ু কামনা করেন।

 

তিনি বলেন, দুষ্টের দমন ও শিষ্টের পালনের মধ্য দিয়ে ভক্তের জীবনে কল্যাণের অঙ্গীকার নিয়ে পৃথিবীতে আগমন ঘটে দেবী শ্যামার। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কাছে তাই শ্যামা দেবী শান্তি, সংহতি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার প্রতীক।

 

শ্যামাপূজা ও দীপাবলি উপলক্ষে মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটি ও বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের নেতারা জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে দেশবাসীকে কালীপূজা ও দীপাবলির শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। শুভেচ্ছা বাণীতে নেতারা দেশ ও জাতির মঙ্গল ও শান্তি কামনা করেন।

অধিকাংশ দেব-দেবীর পূজা দিনে হলেও শ্যামাপূজা হয় রাতে। কার্তিক মাসের অমবস্যা তিথিতে এ পূজা হয়ে থাকে। এ পূজা দীপাবলি বা ‘দিওয়ালি’ নামেও পরিচিত। দশ মহাবিদ্যার প্রথম মহাবিদ্যা হচ্ছেন শ্যামা। দেবী সম্পর্কে বিভিন্ন পুরাণ ও তন্ত্রে বহু তথ্য আছে। এছাড়া দেবী শ্যামার বিভিন্ন রূপের কথা বলা হয়েছে বঙ্গীয় তন্ত্রসার, শ্যামা রহস্য বিবিধ তন্ত্রে। তার রূপের মধ্যে রয়েছে- দক্ষিণ, সিদ্ধ, ভদ্র, শ্মশান, রক্ষা ও মহাকালী। শ্যামার চতুর্ভূজের দক্ষিণ হস্তদ্বয়ে থাকে খট্বাঙ্গ ও চন্দ্রহাস এবং বাম হস্তদ্বয়ে থাকে বর্ম ও পাশ। দেবী ব্যাঘ্রচর্ম পরিধানে থাকেন।

 

দেবীর আবির্ভাব সম্পর্কে পুরাণে বলা হয়েছে, দেবাসুরের যুদ্ধে পরাজিত দেবদের স্তুতিতে আদ্যাশক্তি ভগবতীর দেহকোষ থেকে দেবী কৌষিকী আবির্ভূত হন। শ্যামাপূজায় সাধারণত পাঠা, ভেড়া বা মহিষ বলি দেওয়া হয়।

 

এদিন গোপীবাগের রামকৃষ্ণ মিশন ও মঠ, রমনা কালীমন্দির ও মা আনন্দময়ী আশ্রম, সিদ্ধেশ্বরী কালীমন্দির, বরদেশ্বরী কালীমাতা মন্দির, ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির, জয়কালী মন্দিরসহ পুরান ঢাকার শাঁখারীবাজার, তাঁতীবাজার, সূত্রাপুর এলাকায় মণ্ডপে শ্যামাপূজা ও দীপাবলি পালিত হচ্ছে।

 

এছাড়া সন্ধ্যায় মৃত আত্মীয়-স্বজনদের মঙ্গল কামনায় জলে প্রদীপ ভাসান অনেকে। একই সঙ্গে  মন্দির, মণ্ডন্ডপ ও হিন্দুদের ঘরে ঘরে দীপাবলি উদযাপনের জন্য প্রদীপ প্রজ্বলন করা হয়। রাতে মণ্ডপে মণ্ডপে দেবীর পূজার পাশাপাশি থাকবে অঞ্জলি প্রদান, প্রসাদ বিতরণ, আরতি, ধর্মীয় সঙ্গীত, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, আলোকসজ্জাসহ বিভিন্ন কর্মসূচি।

আরও সংবাদ