মুসলিম উম্মার ত্যাগ ও শোকের এই দিন ‘পবিত্র আশুরা’


করোনার মধ্যেই বিভিন্ন দেশে পালিত হচ্ছে পবিত্র আশুরা। এই দিনে ইরাকের কারবালায় ময়দানে হযরত মুহাম্মদ (সঃ) নাতী হযরত ইমাম হোসেন( রাঃ) ইয়াজিদ বাহিনীর হাতে শহীদ হোন। করোনার মধ্যে ৩য় বারের মতো ইরাকে পালিত হচ্ছে পবিত্র আশুরা। গত বছর করোনার মধ্যে বিধিনিষেধ এবং মাস্ক পরিধান করা বাধ্যতা মূলক থাকলেও এবার ছিল ভিন্ন চিত্র। যথাযথ মর্যাদায় পালন করা হয় এই দিনটি। এছাড়া বাংলাদেশ নানা ভাবে পালিত হচ্ছে এই দিনটি। মুসলিম উম্মার ত্যাগ ও শোকের এই দিনটি করোনা পরিস্থিতি বিবেচনায় এবার তেমন কোনো আয়োজন করা হয় নি। ধর্ম মন্ত্রণালয় এর নির্দেশনা অনুযায়ী এবার এর পরিস্থিতি বিবেচনায় সকল তাজিয়া মিছিল, সমাবেশ, শোক সভা বন্ধ ঘোষনা করা হয়েছে। তবে স্বাস্থ্য বিধি মেনে সীমিত পরিসর এ এবারে আয়োজন করা হয়েছে। তবে বের করা যাবে না কোনো মিছিল।

আশুরা কি?
আল্লাহ তা’লার নিকট অতি সম্মানিত মাস ৪ টি জিলকদ, জিলহজ্ব, মুহররম, রজব। ॥(বুখারী-২৯৫৮) তবে এর মধ্যে সবচেয়ে স্মরনীয় মাস হলো মুহররম মাস। হাদিসে এ মাসকে ‘শাহরুল্লাহ’ অর্থাৎ আল্লাহর মাস বলে উল্লেখ করা হয়েছে। মুহাররমের ১০ তারিখকেই আশুরা বলা হয়।

আশুরার ইতিহাস ও তাৎপর্য:
আজকের এই দিনে হযরত ইমাম হোসেন ( রাঃ)
ইসলাম এর জন্য কারবালার ময়দানে ৭২ জন সহযোগি সহ ইয়াজিদ বাহিনীর হাতে শহীদ হোন। তাই এই দিনটি মুসলিম উম্মার জন্য ত্যাগ ও শোকের একটি দিন। আশুরার দিন এ ঘটে যাওয়া ঘটনার মধ্যে সবচেয়ে করুন ইতিহাস হলো এটি। এই দিন অনেকেই নফল রোজা রাখেন। মুহাররম মাসের রোজাকে রাসুলুল্লাহ (ﷺ‬) রমজানের পর সর্বাধিক উত্তম রোজা বলে অভিহিত করেছেন। (মুসলিম)
আশুরার দিনের সিয়াম পালনের মাধ্যমে, রাসুল (ﷺ‬) আল্লাহ তা’আলার নিকট বিগত বছরের গুনাহ মাফের প্রত্যাশা রেখেছেন। [মুসলিম]

আশুরার দিন ঘটে যাওয়া ঘটনা সমূহ :
১. আজকের এই দিনে মহান আল্লাহ তা’লা পৃথিবী সৃষ্টি করেন এবং আজকের এই দিনেই দুনিয়া ধ্বংস হবে।

২. আশুরার এই দিনে অর্থাৎ ১০ ই মুহররম হযরত আদম (আঃ) এবং হাওয়া (আঃ) কে সৃষ্টি করা হয়। এছাড়া আজকের এই দিনে গন্ধম খাওয়ার অপরাধ থেকে মহান আল্লাহ তাদেরকে মুক্তি দেন এবং জান্নাতে প্রবেশ করান।

৩. আশুরার এই দিনে তুর পাহাড় এ হযরত মুসা( আঃ ) মহান আল্লাহ সাথে কথা বলেন এবং আসমানি কিতাব তৌরাত লাভ করেন।

৪. মুসা (আ:) ও বনি ঈসরাইলকে এই দিনে আল্লাহ তা’আলা ফিরআউনের অত্যাচারের কবল থেকে মুক্তি দিয়েছিলেন। [বুখারী]
এই দিনে ফেরাউন এর দল নীল নদে ডুবে যায়। এটিও ইসলামি ইতিহাস এ একটি স্মরনীয় ঘটনার মধ্যে একটি।

৫. এই দিনে হযরত ইব্রাহিম (আঃ) জন্ম গ্রহন করেন এবং নমরুদদের অগ্নিকুণ্ড থেকে আল্লাহ তা’লা হযরত ইব্রাহিম (আঃ) মুক্তি দান করেন।

৬. হযরত ইউনুস (আঃ) কে মাছের পেট থেকে মুক্ত করা হয় আজকের এই দিনে। এসকল ইতিহাস আজকের এই দিনের সাথে জড়িত। এসকল ঘটনার জন্য ১০ ই মুহররম মুসলিম উম্মার জন্য একটি স্মরনীয় দিন। তাই নানা ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী বিশেষ মর্যাদায় পালন করা হয় এই দিনটি।

লেখিকাঃ এফ এস সোহানা সরকার।

আরও সংবাদ