প্রকৃত বন্ধুর খোঁজে তুরস্ক!

সিরিয়া ইস্যুতে যেন চোখ খুলেছে তুরস্কের। বন্ধু হিসেবে দাবি করে আসা অনেক দেশই যে তাদের প্রকৃত বন্ধু নয় সেটিও বেশ ভালোভাবেই উপলব্ধি করতে পেরেছে তারা। ফলে এখন থেকে হয়তো নতুন বন্ধু খুঁজতে নামবেন দেশটির প্রেসিডেন্ট রেসেপ তাইয়্যেপ এরদোগান।

সিরিয়া ইস্যুতে তথাকথিত অনেক মিত্রকেই পাশে পায়নি আঙ্কারা। এ কারণে শেষ পর্যন্ত নিজেদের প্রচেষ্টাতেই এই ইস্যুর রাজনৈতিক সমাধান করেছে তুরস্ক। আপাতত সিরিয়া ও রাশিয়ার সঙ্গে উত্তেজনা হ্রাসের পদক্ষেপ নিতে সক্ষম হলেও দীর্ঘমেয়াদে তাদের পাশে কে থাকবে তা নিয়েই হয়তো চিন্তিত আঙ্কারা।

তুরস্কের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক খুব ভালো বলেই মনে করা হতো। বিভিন্ন ইস্যুতে দেশ দুটি একে-অপরের পাশে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া মার্কিন নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ন্যাটোর সদস্য তুরস্ক। ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটোভুক্ত অন্য দেশগুলো থেকে শক্তিশালী সমর্থন পাওয়ার কথা দেশটির। কিন্তু সিরিয়া ইস্যুতে সেরকমটি দেখা যায়নি।

বারাক ওবামার সময়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে আঙ্কারার সম্পর্ক ভালো থাকলেও ট্রাম্পের আমলে সেটি খুব একটা ভালো যাচ্ছে না। বরং দেশ দুটির মধ্যকার দূরত্ব ক্রমেই বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তৈরি হওয়া এ দূরত্ব থেকেই রাশিয়ার বন্ধু হতে চেয়েছিল তুরস্ক।

এ কারণে যুক্তরাষ্ট্রের হুমকি উপেক্ষা করে মস্কো থেকে কয়েক বিলিয়ন ডলারের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কিনেছে আঙ্কারা। ইতোমধ্যে রাশিয়ার এস-৪০০ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার প্রথম চালান তুরস্কে পৌঁছেছেও। দেশ দুটির মধ্যে বিরাট অঙ্কের সামরিক বাণিজ্য হলেও বন্ধুত্ব যে হয়নি তা স্পষ্ট হলো সিরিয়া ইস্যুতে।

আসাদবাহিনীর সঙ্গে তুর্কি সামরিকবাহিনী সংঘর্ষে জড়ানোর পর বার বার আসাদ সরকারের পক্ষে কথা বলেছে রাশিয়া। এমনকি তারা এটাও বলেছে, সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শেষ না হওয়া পর্যন্ত সিরিয়াকে সমর্থন দিয়ে যাবে রাশিয়া। এতে যে পরিস্থিতিই তৈরি হোক না কেন, মস্কো পিছিয়ে আসবে না।

রুশ কর্তৃপক্ষের এসব মন্তব্যেই স্পষ্ট বোঝা গেছে, তুরস্কের চেয়ে সিরিয়াই তাদের কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ ও কাছের। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক নষ্ট করে রুশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার পরও তারা যে মস্কোর ঘনিষ্ঠ হতে পারেনি সেটা হয়তো এখন বুঝতে পারছে তুরস্ক।

এছাড়া সিরিয়া ইস্যুতে তুরস্ক যখন রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধের মুখোমুখি তখন ন্যাটোও তাদের উপযুক্ত সমর্থন দেয়নি। শক্তভাবে কেউ পাশে দাঁড়ায়নি আঙ্কারার। ফলে তুর্কি প্রেসিডেন্ট এরদোগান নিজ উদ্যোগে সমস্যার সমাধান করেছেন।

এরদোগান অবশ্য ইরানের সঙ্গেও সম্পর্ক ভালো করতে চেয়েছেন। কিন্তু তেহরান তাদের ‘বন্ধু’ হয়নি। ইরান মনে করে, তুরস্ক ন্যাটো সদস্য। ফলে তুরস্ক যা করবে তা যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ আদায়ের জন্যই করবে। মূলত এ কারণে আঙ্কারা-তেহরানের মধ্যে একটি মনস্তাত্ত্বিক দূরত্ব রয়েছে। যদিও দেশ দুটির মধ্যে এখনো পর্যন্ত বাণিজ্যিক সম্পর্ক খুবই ভালো।

তুরস্কের কাছের এতগুলো দেশের মধ্যে কেউই সিরিয়া ইস্যুতে এরদোগানের পাশে শক্তভাবে দাঁড়ায়নি। ফলে বন্ধুত্বের বিষয়টি নিয়ে হয়তো নতুন করেই ভাবছে আঙ্কারা। এমনকি এরই মধ্যে হয়তো নতুন কোনো বন্ধুও খুঁজতে শুরু করেছে তারা। কিংবা বিরোধ থাকার পরও ক্ষমতাধর দেশগুলোর সঙ্গে হয়তো নতুন কৌশলে ঘনিষ্ঠ হওয়ার চেষ্টা করবেন এরদোগান।

সূত্র : রুশ সংবাদমাধ্যম সারিজামের প্রতিবেদন অবলম্বনে

এশিয়াবিডি/ডেস্ক/সাইফ

আরও সংবাদ