রাজনগর থানার বিপক্ষে টাকার বিনিময়ে চার্জশীট থেকে হত্যা মামলার আসামী ছেড়ে দেয়ার অভিযোগ
‘আমার ভাই একজন হাফেজ ছিল। রমজানের দিনে ইফতারের ৫মিনিট আগে তারা নৃশংসভাবে হত্যা করে। কিন্তু এই মামলার আসামী হত্যায় হুকুমদাতাকে পুলিশ চার্জশীট থেকে বাদ দিয়েছে।’ আমরা এর সঠিক বিচার চাই। এভাবেই কন্না করতে করতে নিজের কথাগুলো সাংবাদিকদের বলেন নিহত হাফেজ তারেকের বোন মামলার বাদী সেলিনা জন্নাত সুমা। রাজনগর প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে মামলার চার্জশীট থেকে ৩ আসামীকে বাদ দেয়ায় ক্ষোভ জানিয়েছেন তারা। তাদের দাবী পুলিশ বেশি টাকার বিনিময়ে আসামীদের বাদ দিয়েছে।
জানা যায়, মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার সদর ইউনিয়নের ঘরগাঁও গ্রামে গত ২৫ ফেব্রুয়ারী রমজান মাসে ইফতারের ৫ মিনিট আগে খুন হন। এঘটনায় নিহতের বড়বোন সেলিনা আক্তার সুমা বাদী হয়ে রাজনগর থানায় ৫ জনকে আসামী করে লিখিত অভিযোগ দেন। মামলার তদন্তের ভার পড়ে রাজনগর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) অরূপ সরকারের হাতে। ওই অভিযোগের প্রেক্ষিতে পুলিশ চট্রগ্রাম থেকে আতিক, সবুজ মিয়া, রিয়াদ মিয়া ও মেহদি হাসান আতিককে গ্রেপ্তার করে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গত ৩১ জুলাই আদালতে চার্জশীট দাখিল করেন। এতে মামলার প্রধান আসামী সবুজ মিয়া, হৃদয় মিয়া ও মোমিন মিয়াকে চার্জশীট থেকে বাদ দেয়া হয়। মামলায় মেহদি হাসান আতিক ও রিয়াদ মিয়াকে অভিযুক্ত করা হয়। কিন্তু মামলার আসামীদের চার্জ সীট থেকে বাদ দেয়ায় ক্ষোভ জানিয়েছেন মামলার বাদী।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ‘রফিকুল ইসলাম তারেকে হত্যার পর মামলা করা হলো কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে, আদালতে দাখিলকৃত হত্যা মামলার চার্জশিটে চরম পক্ষপাতিত্ব করা হয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডের সাথে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত আসামী সবুজ মিয়া, হৃদয় মিয়া এবং মোমিন মিয়া-এই তিনজনকে এক অদৃশ্য শক্তির প্রভাবে এবং বিপুল পরিমাণ অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে প্রভাবিত হয়ে চার্জশিট থেকে নাম বাদ দিয়ে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। প্রকাশ্য দিবালোকে ঘটে যাওয়া একটি নৃশংস হত্যাকান্ডের মূল অভিযুক্তদের এভাবে বেকসুর খালাস দেওয়ার চেষ্টা কেবল ন্যায়বিচারের পরিপন্থীই নয়, বরং দেশের আইন ও বিচার ব্যবস্থার প্রতি এক চরম অবমাননা। আমরা সঠিক ও নিরপেক্ষ পুনঃতদন্ত করে এই চার্জসীট বাতিল , সংশ্লিষ্টদের বিরোদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবী জানাই।’
সোমবার সকাল ১১টায় রাজনগর প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নিহত তারেকের পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন তারেকের চাচা কামরুল ইসলাম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন নিহতের বোন সেলিনা জান্নাত সুমা ও মাহবুবা জান্নাত শিমু।
এব্যাপারে মমলার তদন্ত কর্মকর্তা রাজনগর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) অরূপ সরকার বলেন, বাদী পক্ষের দাবী সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। ঘটনার পরপরই অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আবুল খায়ের স্যার ও তৎসময়ে ভারপ্রাপ্ত অফিসার ইনচার্জ, সুমন চন্দ্র সরকার সহ আমরা ঘটনাস্থলে গিয়েছি। উপস্থিত লোকজন ও পরবর্তী তদন্তে ঘটনার সাথে দুই জনেরই সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গিয়েছে। আমি একজন নিরপরাধ ব্যক্তিকে অপরাধী করতে পারি না। হত্যার সুষ্টু বিচারের জন্যই হত্যার সাথে জড়িতদের আসামী করেছি।
রাজনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এনামুল হক চৌধুরী বলেন, পুলিশ এখানে প্রভাবিত হয়নি। মামলার সঠিক তদন্ত করা হয়েছে। যাদেরকে ঘটনার সঙ্গে জড়িত পাওয়া গিয়েছে তাদেরকেই চার্জশীটভূক্ত করা হয়েছে।
