ওসমানীনগর উপজেলার একাধিক দপ্তরে কর্মদিবসেও ঝুলছে তালা

সিলেটের ওসমানীনগরে উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অফিসে না আসার অভিযোগ উঠেছে। ফলে প্রতিদিন উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে আগত লোকজন সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। উপজেলার বিভিন্ন অফিসে এমন অচলাবস্থা বিরাজ করলেও এ ব্যাপারে কারো নজরদারী নেই। সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের অভিযোগের প্রেক্ষিতে সরেজমিনে ওসমানীনগর উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে গিয়ে এমন অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে।

সোমবার সরেজমিনে গিয়ে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত গোয়ালাবাজারস্থ উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার অফিস ও দুপুর ১২টার পর্যন্ত তাজপুর বাজারস্থ পরিসংখ্যান ও দারিদ্র বিমোচন অফিসে তালা ঝুলতে দেখা যায়। সকাল ১০টা ৪০মিনিটে উপজেলা প্রশাসনের ভবনে থাকা উপজেলা মৎস্য ও প্রাথমিক শিক্ষা অফিস তালাবদ্ধ ছিলো। একই সময়ে উপজেলা ভূমি অফিসে গিয়ে একজন এমএলএসএস ছাড়া আর কাউকে পাওয়া যায়নি। অন্যরা ছুটিতে রয়েছে বলে জানান এমএলএসএস আলমগীর। উপজেলা এলজিইডি অফিসে গিয়েও হিসাব সহকারি ছাড়া কাউকে পাওয়া যায়নি। তবে পৌনে ১১টার দিকে অফিস সহকারি সাবেকুন নাহারকে প্রবেশ করতে দেখা যায়।

এ সময় উপজেলা নবাগত প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আবদুল মমিন মিয়াকে হিসাবরক্ষণ অফিসে দেখা যায় এবং ১১টার দিকে সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা সানাউল হক সানি অফিসে আসতে দেখা গেছে। ১১টা ৪৩ মিনিটের সময় তাজপুর কদমতলাস্থ উপজেলা খাদ্য গুদামে গিয়ে একজন নিরাপত্তা প্রহরি ছাড়া কাউকে পাওয়া যায়নি। উপ খাদ্য পরিদর্শক মূর্শেদা বেগম অফিসে আসেননি বলে নিরাপত্তা প্রহরি সেলিম মিয়া সাংবাদিকদের জানান। দুপুর ১২টায় তাজপুর বাজারস্থ উপজেলা তথ্য অফিসে গিয়েও তথ্য কর্মকর্তা লাকিমা খাতুনকে পাওয়া যায়নি। তিনি বাইরে রয়েছেন বলে জানা যায়।

উপজেলা পরিসংখ্যান অফিসের জুনিয়র পরিসংখ্যান সহকারি মোশাহিদ আলী বলেন, আমাদের অফিসে স্টাফ মাত্র দুজন। একজন ছুটিতে রয়েছেন। আমি অফিসের কাজে বালাগঞ্জে ছিলাম। তাই অফিসে তালা না ঝুলিয়ে উপায় নেই। উপ-খাদ্য পরিদর্শক মূর্শেদা বেগম জানান, সিলেটে তিনি একটি মিটিংয়ে থাকায় অফিসে আসতে পারেননি। উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা ফাহিমা খানম বলেন, ফিল্ডে কাজে থাকায় আমি বাইরে আছি। জনবল না থাকায় অফিস তালাবদ্ধ রাখতে হয়। অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী এসআর কিবরিয়া বলেন, সময় মতো অফিসে না আসা গুরুতর অপরাধ। বিষয়টি খতিয়ে দেখছি।

উপজেলা অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা সহকারি কমিশনার (ভূমি) ফাতেমাতুজ জহুরা বলেন, অফিসে জনবল কম এবং দু’জন ছুটিতে রয়েছেন। তবে সার্ভেয়ার অফিসে থাকার কথা। এদিকে সার্ভেয়ার হযরত আলী মুঠোফোনে জানান, সাংবাদিকদের পরিদর্শনকালে তিনি ‘বাথরুমে’ ছিলেন। উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মাশরুফা তাসলিম বলেন, অফিসে জনবল কম। একজন ছুটিতে রয়েছেন এবং আমি ফিল্ডে কাজে ছিলাম। অপরজন হয়তো কোন কাজে বাইরে ছিলো। তবে ফিল্ড শেষ করে আমি অফিসেই ছিলাম।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছাঃ তাহমিনা আক্তার বলেন, উপজেলা প্রশাসনের সকল দপ্তরে জনবল সংকট রয়েছে। তবে সরকারি কোন অফিস তালাবদ্ধ রাখা ঠিক নয়। এমনটি হয়ে থাকলে আগামী সমন্বয় কমিটির সভায় এ বিষয়ে আলোচনা করবো।

আরও সংবাদ
error: You are under arrest !!