রাজনগরে পানিউন্নয়নবোর্ডের উদাসীনতায় পানির নিচে তলিয়ে গেল কৃষকের স্বপ্ন, বিপাকে শিক্ষার্থীরা

মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নিয়ন্ত্রণাধীন কাশিমপুর পাম্প হাউসে নিয়মিত পানি সেচ না দেওয়ায় রাজনগর উপজেলার কাউয়া দীঘি হাওর পাড়ের ফতেপুর, উত্তরভাগ, মুন্সিবাজার, পাঁচগাঁও, রাজনগর ও মনসুর নগর ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দি অবস্থায় আছেন ১০-১৫টি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ। পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টির পানি নিষ্কাশন না হওয়ায় প্রায় ২০-৩০ একর জমির নতুন আমন চারা তলিয়ে গেছে, ভেসে গেছে অর্ধশতাধিক মৎস্য খামারের মাছ। ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১ কোটি টাকা। একই সাথে পানি বৃদ্ধির কারণে ১০-১২টি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ১টি হাইস্কুল ও ২টি দাখিল মাদ্রাসার কয়েক শতাধিক শিক্ষার্থী চরম দুর্দশায় পড়েছে।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে কাউয়া দীঘি হাওরের পানি অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেলেও পাউবোর কাশিমপুর পাম্প হাউসটি নিয়মিত চালু নেই। কাশিমপুর পাম্প হাউসে রবিবার দুপুরে গিয়ে সরেজমিনে দেখা যায়, ৮টি পাম্পের মধ্যে ২টি চালু আছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, জ্বালানি সংকটের অজুহাতে সপ্তাহে ২-৩ দিনের বেশি পানি সেচ করা হচ্ছে না। ফলে হাওরের অতিরিক্ত পানি দ্রুত নিষ্কাশন সম্ভব হয়নি। পানি বেড়ে উল্লেখিত ৬টি ইউনিয়নের নিচু এলাকার নতুন আমন চারা সম্পূর্ণ পানির নিচে তলিয়ে গেছে। একই সাথে হাওর পাড়ের মৎস্য প্রকল্পগুলো পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় খামারিদের লাখ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। এদিকে পানি বৃদ্ধির কারণে এলাকার শিক্ষার্থীদের স্কুলে যাতায়াতে চরম ভোগান্তি সৃষ্টি হয়েছে। হাঁটুপানি ও কাদা ভেঙে ঝুঁকি নিয়ে ক্লাসে যেতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। অনেক অভিভাবকই সন্তানদের স্কুলে পাঠানো বন্ধ করে দিয়েছেন।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী কৃষক আব্দুল মালিক বলেন, “ঋণ করে জমিতে আমন চারা লাগিয়েছিলাম। পাউবোর পাম্প চালু থাকলে আমাদের এই অবস্থা হতো না। বৃষ্টির পানি জমে থেকে সব ফসল নষ্ট করে দিল। এখন আমরা পথে বসার উপক্রম।”

মৎস্য চাষি রফিক মিয়া বলেন, “রাতারাতি আমার ৮ বিঘার ফিসারির সব মাছ ভেসে গেছে। এখন ব্যাংকের ঋণ কীভাবে শোধ করবো।”

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী কর্মকর্তা খালিদ বিন ওয়ালিদ বলেন, “বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের কারণে কাশিমপুর পাম্প হাউসে নিয়মিত সেচ দেওয়া যাচ্ছে না। তবে বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। দ্রুত সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

স্থানীয়রা পানি উন্নয়ন বোর্ডের অবহেলার তদন্তপূর্বক দ্রুত কাশিমপুর পাম্প হাউস ২৪ ঘণ্টা চালু করে পানি নিষ্কাশন এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও মৎস্য চাষিদের সরকারি সহায়তার দাবি জানিয়েছেন।

আরও সংবাদ