যুক্তরাজ্য প্রবাসী খাদিজা আক্তারের সিলেটের বাড়িতে হামলা ও পুলিশি তল্লাশি
পরিকল্পিতভাবে যুক্তরাজ্য প্রবাসী ও সাবেক ছাত্রলীগ নেত্রী খাদিজা আক্তারের সিলেটের বাড়িতে হামলা ও পুলিশি তল্লাশির অভিযোগ উঠেছে। তার গ্রামের বাড়ি সিলেটের জালালাবাদ উপজেলার কান্দিগাঁও ইউনিয়নের মোল্লারগাঁও গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। আওয়ামীলীগ সরকার পতনের পর থেকে বিভিন্ন সময়ে কয়েক দফায় এ নেত্রীর বাড়িতে তল্লাশি অভিযান ও হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে।
সর্বশেষ গত ২৫ ফেব্রুয়ারী বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে পুলিশি তল্লাশি চালানো হয়। যা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
স্থানীয় ও পারিবারের সদস্যরা জানান, পূর্বের রাজনৈতিক বিরোধের জের ধরে সাবেক সিটি কর্পোরেশন মেয়র এবং বর্তমান সরকারের এমপি ও প্রভাবশালী মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী’র নেতৃত্বে স্থানীয় নেতাকর্মীরা মব সৃষ্টি করে খাদিজা আক্তারের বাড়িতে হামলা চালায় এবং একই দিনে পুলিশি তল্লাশি পরিচালিত হয়। হামলাকারীরা আশপাশের লোকজনের কাছে জানতে চায়, খাদিজা আক্তার দেশে ফিরেছেন কি না এবং পূর্বের আক্রোশ মেটানোর উদ্দেশ্যেই এ হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, পূর্বে খাদিজা আক্তারের পারিবারিক জায়গা দখল করে সেখানে ব্রিক ফিল্ড ও বালুর স্টোরেজ গড়ে তোলা হয়। যা আরিফুল হক চৌধুরী’র অনুসারীদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। পরিবারটির দাবি, আরিফুল হক চৌধুরী উক্ত জায়গার দলিল বার বার চাইছেন পরিশেষে তল্লাশি করে ঘরে খোঁজতেছেন। খাদিজা আক্তার এসব বিষয় অনলাইনে বিভিন্ন মাধ্যমে তুলে ধরায় সংশ্লিষ্ট প্রভাবশালী মহল ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। একই সঙ্গে তাকে খোঁজা হচ্ছে বলেও জানা গেছে।
পরিবারের সদস্যরা আরও অভিযোগ করেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে বাড়িতে বারবার তল্লাশি চালানো হচ্ছে। যা তাদের মধ্যে চরম আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে। বর্তমানে বাড়িতে অবস্থানরত তার মা ও ছোট ভাইসহ অন্যান্য সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন।
স্বজনরা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, খাদিজা আক্তার দেশে ফিরলে তার জীবনের ঝুঁকি রয়েছে। একই সঙ্গে বারবার এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তিতে তার পরিবারও চরম অনিশ্চয়তা ও ভয়ের মধ্যে রয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবার দাবি করেছে, মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী’র প্রভাবেই এসব ঘটনা ঘটছে এবং স্থানীয় প্রশাসন তার প্রভাবমুক্ত নয়। তাদের অভিযোগ, প্রশাসনকে ইচ্ছামতো ব্যবহার করা হচ্ছে, যার ফলে সাধারণ মানুষও অসহায় হয়ে পড়েছে।
খাদিজা আক্তার ও তার পরিবার এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার জোর দাবি জানান।
