নোয়াখালীতে ছেলে এলডিপি’র রাজনীতি করায় বাবাকে মারধর, লুটপাট করে দোকানে তালা

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার ১ নং আমানউল্যাপুর ইউনিয়ন এজি মার্কেট এর ব্যবসায়ী কাজী স্টেশনারির মালিক কাজী সহিদ উল্যাকে মারধর, দোকান লুট, ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি এবং দোকানের তালা লাগিয়ে দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

 

প্রত্যক্ষদর্শী সেলুন দোকানদার ও বন্ধন ইত্যাদি বিতানের মালিক জানান, (২৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৪টার দিকে তাদের সামনে দোকান কাজী স্টেশনারিতে বিএনপি সন্ত্রাসীরা উত্তপ্ত বাক্য এবং গালিগালাজ করে। এসময় তারা ওই সন্ত্রাসীদের বলতে শোনেন, ‘তোর ছেলেকে নিষেধ করার পরেও তোর ছেলে এলডিপির রাজনীতি ছাড়ে নাই। পোস্টার-ব্যানার-মাইক দিয়ে তোর ছেলের পক্ষে এলডিপির প্রচারণা হচ্ছে। তুই তোর ছেলে, ছেলের পরিবার এবং দাবিকৃত ২০ লক্ষ টাকা দিস নাই’ – এই বলে তারা দোকান ভাঙচুর করে। দোকানের মালামাল ও ক্যাশ থেকে টাকা লুট করা শুরু করে তারা। এই সময় কাজী সহিদ উল্যা বিএনপির সন্ত্রাসীদের বাধা দিতে গেলে সন্ত্রাসী দেলোয়ার, মাহবুব, জুয়েল দোকান মালিক কাজী সহিদ উল্যাকে কিলগুসি, থাপ্পর মারতে শুরু করে। এতে তিনি আহত এবং রক্তাক্ত হন। প্রত্যক্ষদর্শীরা আরো বলেন, সন্ত্রাসীরা বলতে থাকে ‘তোর ছেলে ও ছেলের পরিবারের সন্ধান এবং দাবিকৃত ২০ লাখ টাকা না দেওয়ায় তুই আর ব্যবসা করতে পারবি না।’ এই কথা বলে তারা দোকানের সাটারে তালা লাগিয়ে চলে যায়। পরে মার্কেটের ব্যবসায়ী ও উপস্থিত লোকজন কাজী সহিদ উল্যাকে আহত অবস্থায় স্থানীয় মা ফার্মেসিতে নিলে ডাক্তার মোঃ গোলাম রাব্বী (শাওন) তাকে চিকিৎসা দেন। চিকিৎসা শেষে স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাকে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়।

 

এ ব্যাপারে স্থানীয়রা জানান, সন্ত্রাসী দেলোয়ার, মাহবুব, জুয়েল, ডিজে ফয়সাল পূর্বে ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত থাকলেও বর্তমানে তারা ক্ষমতাসীন দল বিএনপিতে যোগদান করেছে।

 

হামলার শিকার কাজী সহিদ উল্যা বলেন, গত  ০৭ ফেব্রুয়ারি আনুমানিক সকাল ১০ টার দিকে বিএনপি সন্ত্রাসীরা আমার দোকানে আসে। আমার ছেলে কাজী শাহাদাত হোসেনকে এবং আমাকে নিয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে এবং আমার কাছে জানতে চায় আমার ছেলে ও ছেলের পরিবার কোথায় আছে। তারা আমার কাছে তাদের দলের জন্য নির্বাচনী খরচ হিসেবে ২০ লাখ টাকা চাঁদা চায়। এক পর্যায়ে আমার ছেলের পক্ষে এলডিপির পোস্টার-ব্যানার-মাইক দিয়ে প্রচারণা হচ্ছে অভিযোগ করে। ছেলে ও ছেলের পরিবারের খবর ও তাদের দাবিকৃত টাকা না দেয়ায়  গতকাল আমাকে মারধর করে দোকানে লুটপাট ও ভাংচুর করে তালা লাগিয়ে দেয়। তিনি আরো জানান, পুলিশের কাছে অভিযোগ করতে গিয়েও কোন সুরাহা পান নি।

 

এই ব্যাপারে বেগমগঞ্জ থানার এ এস আই মো. আবুল হোসেন এর সাথে কথা হলে তিনি বলেন, হামলার খবর পেয়েছি। নিজেদের মধ্যে সমঝোতা করতে বলেছি। যেহেতু ঘটনাটি রাজনৈতিক বিষয় তাই নিজেদের মধ্যে সমঝোতা করতে বলেছি।
আরও সংবাদ