দক্ষিণ আফ্রিকায় আগুনে পুড়ে মুন্সীগঞ্জের প্রবাসীর মৃত্যু, দেশে ৪ সন্তানের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত
সংসারের অভাব ঘুচিয়ে তিন মেয়ের মুখে হাসি ফোটানোর স্বপ্ন ছিল তাঁর। সেই স্বপ্ন নিয়েই মাত্র আড়াই মাস আগে প্রায় ৮ লাখ টাকা খরচ করে দক্ষিণ আফ্রিকায় পাড়ি জমিয়েছিলেন মুন্সীগঞ্জের রাজিক বেপারি (৫২)।
কিন্তু ভাগ্য বদলের সেই যাত্রা শেষ হলো আগুনে পুড়ে মৃত্যুর মধ্য দিয়ে।
তাঁর মৃত্যুতে দেশে থাকা তিন কন্যাসন্তান ও মায়ের গর্ভে থাকা অনাগত আরেক সন্তানের ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চয়তায়।
রাজিক বেপারি মুন্সীগঞ্জের মিরকাদিম পৌরসভার কালিন্দিপাড়া এলাকার আব্দুস সালাম বেপারির ছেলে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, কোরবানির ঈদের এক সপ্তাহ পর আত্মীয়ের সহযোগিতায় প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে দক্ষিণ আফ্রিকায় যান তিনি। সেখানে ইস্টার্ন কেপ প্রদেশের কুইন্সটাউন (কোমানি) শহরের একটি সুপারশপে কাজ করতেন।
দক্ষিণ আফ্রিকার স্থানীয় সময় মঙ্গলবার ভোরে ওই সুপারশপে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে ভেতরে আটকা পড়ে ছয়জন বাংলাদেশি প্রবাসীর মৃত্যু হয়। নিহতদের একজন রাজিক বেপারি। তাঁর এক ভাই ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ২৮ কিলোমিটার দূরে থাকতেন। খবর পেয়ে তিনি সেখানে গিয়ে রাজিকের মরদেহ শনাক্ত করেন।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজিকের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, পুরো বাড়িজুড়ে শোকের ছায়া। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ। বারবার বাবার কথা জানতে চাইছে দুই বছরের ছোট্ট রুকাইয়া। বড় দুই মেয়ে রামিসা ও রায়া মনি নির্বাক হয়ে বসে আছে। তাঁদের চোখে এখন শুধু শূন্যতা আর অনিশ্চয়তার ছাপ।
রাজিকের বড় মেয়ে রামিসা (১৬) রিকাবিবাজার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী। দ্বিতীয় মেয়ে রায়া মনি (১২) একই বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ে। সবচেয়ে ছোট মেয়ে রুকাইয়ার বয়স মাত্র দুই বছর।
অন্যদিকে স্ত্রী পুষ্প আক্তার বর্তমানে অন্তঃসত্ত্বা। চিকিৎসকদের হিসাবে আর মাত্র এক মাস পর জন্ম নেওয়ার কথা তাঁদের চতুর্থ সন্তানের। জন্মের আগেই বাবাকে হারাতে হলো সেই অনাগত শিশুকে।
স্বজনরা জানান, জীবনের ৫২ বছর বয়সে এসেও পরিবারের ভাগ্য ফেরানোর আশায় বিদেশে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন রাজিক। দেশে থেকে সংসারের ব্যয় মেটাতে হিমশিম খাওয়ায় শেষ সম্বল জোগাড় করে বিদেশে পাড়ি জমান। কিন্তু মাত্র আড়াই মাসের মাথায় অগ্নিকাণ্ডে তাঁর মৃত্যু হলো।
নিহতের পরিবার জানায়, দক্ষিণ আফ্রিকায় আগুনে নিহত ছয় বাংলাদেশির মধ্যে একজন ছিলেন মুন্সীগঞ্জের রাজিক বেপারি। অন্যদের মধ্যে কয়েকজনের বাড়ি নারায়ণগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন জেলায়।
রাজিকের স্বজনরা দ্রুত তাঁর মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারের সহযোগিতা কামনা করেছেন। একই সঙ্গে পরিবারটির ভবিষ্যৎ বিবেচনায় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা চেয়েছেন তারা।
এশিয়াবিডি টোয়েন্টিফোর ডটকম
