এবারের সিটি নির্বাচন চ্যালেঞ্জিং হবে: কাদের

আওয়ামী লীগের সম্মেলন এবং সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে নেতাকর্মীদের নির্দেশ দিয়েছেন দলটির সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

 

তিনি বলেন, এবারের সিটি করপোরেশন নির্বাচন চ্যালেঞ্জিং হবে। প্রতিপক্ষ আটঘাট বেঁধে নির্বাচনে নামবে। তারা ঐক্যবদ্ধ হলে অনেক শক্তি আছে তাদের।

শুক্রবার (২৫ অক্টোবর) ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের বিশেষ বর্ধিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় ওবায়দুল কাদের বলেন, প্রতিপক্ষকে দুর্বল মনে করবেন না। প্রতিপক্ষ আর কিছু না পারুক ষড়যন্ত্রে ওস্তাদ, বিএনপি ষড়যন্ত্রে ওস্তাদ। আপনারা থানায়-থানায়, ওয়ার্ডে-ওয়ার্ডে কর্মীসভা করুন। সরকারের বিরুদ্ধে অপ্রচারের জবাব দিতে হবে। এই সরকার অপকর্মের ব্যাপারে অতীতের সরকারের মতো নির্বিকার নয়। এখানে অন্যায় করে কেউ পার পাবে না। শুদ্ধি অভিযানে আমাদের নেত্রী অপকর্মের বিরুদ্ধে তার অবস্থান প্রমাণ করেছেন। মাঝে মাঝে আমাদের জোটের মধ্য থেকেও কেউ কেউ উল্টাপাল্টা কথা বলছেন। আমি বলতে চাই সরকারের অস্তিত্ব কেউ দুর্বল ভাববেন না।

কাদের আরো বলেন, শুদ্ধি অভিযানকে কে কীভাবে দেখছে জানি না, কার স্বার্থে আঘাত লেগেছে জানি না। তবে এই শুদ্ধি অভিযান দেশের জনগণ প্রশংসা করছে, সমর্থন জানিয়েছে। বিশ্বে শেখ হাসিনা প্রশংসিত হচ্ছেন। আজ বিএনপি বড় বড় কথা বলে। তারা যখন ক্ষমতায় ছিলো সন্ত্রাস, খুন, লুটপাট, মাদক এমন কোনো অপকর্ম ছিলো না যার সঙ্গে তারা যুক্ত ছিলো না। হাওয়া ভবনের নির্দেশে সবকিছু হয়েছে। একজন অপরাধীকেও তখন আইনের আওতায় আনা হয়নি। ফখরুল সাহেব (বিএনপির মহসচিব) একটি উদাহরণও আপনি দেখাতে পারবেন না। শেখ হাসিনার সাহস আছে, তিনি অপকর্মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছেন।

দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে কাদের বলেন, ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয়। আওয়ামী লীগ অনেক বড় দল। এখানে বিতর্কিত লোক এনে দল ভারী করার দরকার নেই। এদের দিয়ে দল ভারী করেন অন্ধকার এলে বাতি জ্বালিয়ে পাবেন না। আওয়ামী লীগে যোগ্যতা দিয়ে নেতা হতে হবে। যার ভোগের লিপসা আছে তার দরকার নেই। আওয়ামী লীগ লুটপাট সন্ত্রাসীদের পার্টি নয়। জনগণের ইচ্ছায় আমরা থাকবো অপকর্ম করে আমরা ক্ষমতায় থাকতে চাই না। মানুষের মন জয় করে ক্ষমতায় থাকতে চাই। সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, মাদক ব্যবসায়ী, ভূমি দখলকারী, অপকর্মের সঙ্গে জড়িতদের আওয়ামী লীগে দরকার নেই। জনগণ এখন কিছু বলবে না হয়তো, কিন্তু নির্বাচনের সময় জবাব দেবে। আপাতত সম্মেলনের প্রস্তুতি নিন, সামনে সিটি করপোরেশন নির্বাচন। এই নির্বাচনেরও প্রস্তুতি নিন। সময়মতো ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ দক্ষিণের সম্মেলনের তারিখ জানিয়ে দেওয়া হবে।

ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ দক্ষিণের সভাপতি আবুল হাসনাতের সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য রাখেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন ও আওয়ামী লীগ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ।

আরও সংবাদ